জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ও বাঙ্গালীর স্বপ্নসারথি

জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (মার্চ ১৭, ১৯২০ - আগস্ট ১৫, ১৯৭৫) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা যিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের জাতির জনক হিসেবে বিবেচিত। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসাবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি 'বঙ্গবন্ধু' ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস, কাব্য ও মানব হৃদয় হতে মুছে ফেলতে চেয়েছিল; কিন্তু তাদের কু উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন ও থাকবেন চিরকাল পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায় পাতায়, কাব্যগ্রন্থে ও বিশ্বের অগনিত অনুরাগী, ভক্তের হৃদয়ে স্বমহিমায় ও স্বগৌরবে তাঁর আত্মত্যাগের গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকার কারণে তার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে আজকের যিনি সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, তিনি আসলে এই জায়গায় হঠাৎ করে উঠে আসেন নি। বিশ্বব্যাপী তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা, রাজনীতিক সফলতা ও গ্রহণ যোগ্যতার পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ এক ইতিহাস। সেই ইতিহাস বহুক্ষেত্রেই তাঁর জীবনে এক করুণ অধ্যায়। সেইসব করুণ অধ্যায়ের চিত্র উপস্থাপনে এক সফল উপন্যাসও রচিত হতে পারে। এবং হয়েছে আমরা হয়তো তা জানি না।

রাজনীতিকভাবে বিশাল নেতা হবার ক্ষেত্রে রাজনীতিক পরিবারে জন্মগ্রহণের বিষয়টি প্রধান বিবেচ্য বিষয় না হলেও, এইসব ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের আলাদা গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে এক ভাগ্যবান ব্যক্তিত্ব। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। যে পরিবারে রয়েছেন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ হাসিনা সেই মহান ব্যক্তিত্বের যোগ্য কন্যা।

বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও জীবনের প্রথম অধ্যায়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সেই সংগঠনের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। রক্তে যেমন রয়েছে রাজনীতির সফল ধারা তেমনি নিজেও কখনো ছিলেন না রাজনীতির বাইরে। তেমনি ১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনার মৃত্যু হলে বাংলাদেশের রাজনীতির আজ কি পরিণতি হত? বিষয়টি ভেবে দেখলে এর সঠিক উত্তর পেতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। ভাগ্যগুণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তিনি তখন বেঁচে গিয়েছিলেন। সেই বেঁচে উঠা থেকে প্রতিদিনই তাঁকে সংগ্রাম করে পথ চলতে হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তই ছিল তাঁর জীবনে মৃত্যুঝুকির চাদরে ঢাকা। এখনো কি তিনি এই ঝুকিমুক্ত? অতি সন্তর্পনে তাঁকে পথ চলতে হয়েছে। বাংলাদেশের অগুণতি আওয়ামী প্রেমীর ভালোবাসায় তিনি জীবনটাকে এগিয়ে নিয়ে পথ চলেছেন।

হাজারো মিছিলে বেড়ে উঠা একজন দেশরত্ন শেখ হাসিনার আজকের এই পর্যায়ে আসতে রাজনীতির বহু পরীক্ষা পর্ব শেষ করতে হয়েছে। বহু সমালোচনা, বহু আলোচনার ভিতর দিয়ে নিজেকে শান্ত রেখে আজো পথ চলেছেন। বাংলাদেশে দীর্ঘ কুশাসনের পথে সত্যের চাবুক হেনে, একুশ বছরের জঞ্জাল ঠেলে ১৯৯৬ সালে সফল রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশকে পরিচালনা করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে পরিচিত করেছেন।

আমরা তখন হতবাক হয়েছিলাম, যখন ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনে হেরে যায়। ১৯৯৬ এর আওয়ামীলীগের শাসনামল ছিল তাদের জন্যে বিশেষত শেখ হাসিনার জন্য এক দারুণ চ্যালেঞ্জের। তিনি পুরোপুরি সফল হয়েছিলেন, দেশকে নতুন ধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সে ধারা পরবর্তীতে কিছুকাল ব্যাহত হলেও এখন আবার নতুনভাবে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

অতীতের শাসনামলের শেখ হাসিনার সাথে বর্তমান শেখ হাসিনার ভীষণ পার্থক্য। বিশ্ব রাজনীতিতে তিনি এখন এক চ্যালেঞ্জ-গতি-প্রগতির নাম। পৃথিবীর সাথে তথা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। একজন পড়ালেখা করা, জানাশোনা, উচ্চ শিক্ষিত মানুষ হিসেবে তাঁর কাছে এদেশের জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা তিনি পূরণে সচেষ্ট হয়েছেন।

সাম্প্রতিক সিডনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গভরমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স’ এর অধ্যাপক জন কোয়েন তাঁর নিবন্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে - “এশিয়ার নতুন মাহাথির’’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘মাহাথির যেমন মালয়েশিয়াকে পাল্টে দিয়েছে তেমনি শেখ হাসিনাও দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। জন বলেছেন, ‘মাহাথিরের সমালোচনাগুলো যেমন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, রয়ে গেছে শুধু তাঁর কীর্তি। শেখ হাসিনাও হয়তো সে পথেই এগুচ্ছেন।’

বাপকা বেটা সিপাই কা ঘোড়া’ কথাটির মর্মার্থ উপলব্ধি করা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকালে। নিজের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তিনিও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা বিশ্ব নেতৃত্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ৯ বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কূটনৈতিক সাফল্যে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনার সামগ্রিক উন্নয়নের ফলে দেশের প্রবৃদ্ধি আজ ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, ১৯৯১ সালে দারিদ্রের হার যেখানে ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ তা আজ ২৩ শতাংশেরও কম, জনগণের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৬১০ ডলারে এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তিনগুন। এছাড়া শেখ হাসিনার দক্ষ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে বিগত ৯ বছরে ৫২ লাখ কর্মীকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে আর যার ফলে অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান মোট জিডিপির ৬ শতাংশের মতো। আর পদ্মা সেতুর মতো বিশাল বাজেটের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কল্যাণে।

শুধু দেশেই নয়, মায়ানমারের ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশে আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বহির্বিশ্বেও মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। এছাড়া ভারতের সাথে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং মায়ানমারের সাথে সমুদ্র বিজয় শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের অবিস্মরনীয় কৃতিত্ব।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরচুনে প্রকাশিত তালিকা মতে বিশ্বসেরা ৫০ নেতার মধ্যে শেখ হাসিনা দশম স্থানে। আর যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, শেখ হাসিনার অসামান্য নেতৃত্বগুণের কীর্তি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে গেছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। পরিশেষেঃ পৃথিবীতে শেখ হাসিনা এক বিরল প্রধানমন্ত্রী যিনি একজন নিয়মিত লেখক, সময় পেলেই পড়াশুনায় মন দিতে তাঁর বিকল্প নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাহিত্যের প্রতিও তাঁর রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। এগুলো এদেশের অন্য রাজনীতিক দলের নেতানেত্রীদের ক্ষেত্রে এক অকল্পনীয় বিষয়।

আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, দেশ গড়ার শপথ নেই,জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করি এবং নৌকার পক্ষে গণজাগরন সৃষ্টি করি। সবাই ভালো থাকুন সুস্ত থাকুন এবং প্রিয় নেত্রীর প্রতি আস্তা রাখুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।

শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র সবার জন্য গনতন্ত্র।
শেখ হাসিনার দু- নয়ন, ডিজিটাল বাংলার উন্নয়ন। সাবধান দেশদ্রোহী ! জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলা আর বাঙ্গালির অতন্দ্র প্রহরী।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা।


মন্তব্যসমূহ

Times24

শুধু মেডামের জন্য এখনো রাজনীতি করছি,তারেকের অধীনে রাজনীতি করার প্রশ্নই আসেনা

বাঁশখালীতে আ'লীগের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে জামায়াত শিবির

৭ই মার্চ স্মরণে চঃদ জেলা ছাত্রলীগের মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

লিটন ভাইয়ের বিকল্ব কেবল লিটন ভাই