জাদুর ছোয়ায় ছাত্রদল নেতা থেকে রাতারাতি যুবলীগ নেতা


এই তো কয়েক মাস আগেও যে কিনা

ছাত্রদল সভাপতি গাজী সিরাজের সাথে বিএনপি’র বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাকে দেখা যেতো। নগর কিংবা ওয়ার্ডে বিএনপি,যুবদল, ছাত্রদলের সকল কর্মসূচীতে তার দলবলে উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতন। কিন্তু হঠাৎ গতবছর রাতারাতি আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এর ছবি যুক্ত ব্যানারে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ দেখে এলাকার সকলে বিষ্মিত হয়েছিলো। এক ডিগবাজিতে ছাত্রদল নেতা থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুবলীগ নেতা বনে যাওয়া যুবকের নাম মোঃ শাহজাহান রুবেল। রুবেলের এক সময়ের রাজনৈতিক অভিভাবক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা বাংলাদেশ প্রেসকে জানিয়েছেন, “আমি রুবেলের কর্মকান্ডে সন্তুষ্ঠ হয়ে তাকে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনীত করে কমিটির তালিকা মহানগর ছাত্রদল নেতাদের কাছে জমা দিয়েছিলাম।
কিন্তু একদিন সকালে হঠাৎ তার যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ব্যানার দেখে আমি নিজেও বিব্রত হয়ে পড়ি। রুবেলকে তখন আমি ডেকে জিগ্যাস করেছিলাম সে কবে থেকে যুবলীগ নেতা হয়েছে। উত্তরে রুবেল বলেছিলো সে নাকি ঐ ব্যানারটি লাগায়নি, তার কিছু ছোট ভাইয়েরা নিজ থেকে হেলাল আকবর বাবরের সাথে তার ছবি সহ ব্যানার লাগিয়েছে। এরপর বিভিন্ন ভাবে আমি জানতে পারি সে হেলাল আকবর চৌধুরীর ছেলেদের সাথে চলা ফেরা করছে। তাই আমি তার সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করি। আমি নিজেও বুঝিনা সে কিভাবে ছাত্রদল থেকে এক লাফে যুবলীগ হয়ে গেলো।”
রুবেলের বাবা লালদিঘি পাড়ের মাইক্রো বাসের সহকারী ছিল। সে নিজেও এক সময় গাড়ীর ড্রাইভারের চাকুরী করতো। পরে ড্রাইভারের চাকুরী ছেড়ে মাদক ব্যবসা ও সিনেমা প্যালেস এলাকার টাংকির পাহাড়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে ব্যাপক চাঁদাবাজির শুরু করে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে একাধিকবার বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল সহ রুবেল হাতেনাতে গ্রেফতার হয়। মাদক ব্যবসা করায় থানাকে ম্যানেজ করে এলাকায় সে নানান অপকর্ম আরোম্ভ করে। সেই সময় আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড ছাত্রলীগের অপু নামের এক কর্মীকে অপহরণ করে চাঁদগাও থানার হামিদ চর নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার চেষ্ঠা করেছিলো।
কোতোয়ালী থানার তৎকালীন ওসি মহিউদ্দিন সেলিম দ্রুত তৎপর হয়ে রুবেলের বাবা-মাকে ধরে থানায় এনে চাপ প্রয়োগ করে তথ্য নিয়ে অপুকে উদ্ধার করে ছিলো। সেই সময় ওসি মহিউদ্দিন সেলিমের কঠোর অবস্থানের কারণে রুবেল ও তার অনুসারীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। গত বছর মার্চ মাসে সে রাতারাতি যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরীর অনুসারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠে। সিনেমা প্যালেস, শহীদ মিনার, নন্দন কানন এলাকায় হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের আরেক অনুসারী নগর স্বেচ্ছা সেবকলীগের এক সদস্যের সাথে মিলে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে লাগলো। যুবলীগ নেতার পরিচয়ে সে এলাকার ছাত্রলীগ নেতাদের টার্গেট করে আক্রমন শুরু করে। মূলত ছাত্রলীগ নেতাদের এলাকা থেকে বিতারিত করে এলাকায় অবস্থিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আইন বিভাগের ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তারের মহা পরিকল্পনা নিয়ে সে মাঠে নেমে যায়। কিছুদিন পূর্বে নগরির খাতুনগঞ্জের আমিন হাজি রোডে নগর ছাত্রলীগের সদস্য তানজির এর পায়ে রুবেল গুলি করে বলে অভিযোগ ওঠে । তানজিরকে গুলি করার ঘটনায় নানান মুখি চাপে অবশেষে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রুবেল ও তার সহকর্মীদের বান্দরবন থেকে গ্রেফতার করে । তবে জেলখানায় রুবেলকে এক যুবলীগ নেতা নিয়মিত লোক মারফৎ সাক্ষাত করিয়ে যাবতীয় দেখভাল করছে বলে রুবেলের এক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে বিপুল অর্থের জোগান থাকায় রুবেলের নিজস্ব বাহিনী সারা শহরে রুবেলকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড যুবলীগ ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের নামে চার রঙ্গা পোস্টার লাগিয়ে সয়লাব করে ফেলেছে। সেই রঙ্গিন পোস্টার গুলোর একটিতে রুবেলকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ অর্থ সম্পাদল হেলাল আকবর চৌধুরীর সহ-যোদ্ধা বলে পরিচয় দেয়া হয়। হেলাল আকবর বাবরের ছবি ছাড়াও পোস্টার গুলোতে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওফেল ও যুবলীগ নেতা জাফরের ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রান মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মাহবুবুল হক সুমনকে রুবেলের মুক্তির দাবী জানিয়ে নগর যুবলীগের নামে পোস্টার কে বা কারা ছাপালো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “নগর যুবলীগের ব্যানারে কোন ওয়ার্ড যুবলীগ সদস্যের মুক্তির দাবীতে কখনোই কোন পোস্টার ছাপানো হয় নাই। যুবলীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন, এখানে চিহ্নিত ছাত্রদল নেতাকে রাতারাতি যুবলীগের কমিটিতে স্থান দেয়ার কোন সুযোগ নেই।” অপর দিকে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব বিশ্বাস সাজুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রুবেল আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড যুবলীগের পদে থাকা তো দূরের কথা যুবলীগে

মন্তব্যসমূহ

Times24

শুধু মেডামের জন্য এখনো রাজনীতি করছি,তারেকের অধীনে রাজনীতি করার প্রশ্নই আসেনা

বাঁশখালীতে আ'লীগের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে জামায়াত শিবির

৭ই মার্চ স্মরণে চঃদ জেলা ছাত্রলীগের মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

লিটন ভাইয়ের বিকল্ব কেবল লিটন ভাই